ইংল্যান্ডে প্রাক্তন মন্ত্রীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত
বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১২ জুন ২০২৫, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA) চৌধুরীর মালিকানাধীন ৩৪২টি সম্পত্তি ফ্রিজ করেছে, যার আনুমানিক মূল্য £১৮৫ মিলিয়ন (প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকা)। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধে নেওয়া হয়েছে। ফ্রিজ করা সম্পত্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে লন্ডনের সেন্ট জনস উডে £১১ মিলিয়ন মূল্যের একটি বিলাসবহুল বাড়ি এবং ফিটজরোভিয়ায় £১২.৬৫ মিলিয়ন মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ।
চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাজ্যে ৩০০টিরও বেশি সম্পত্তির মালিক, যা প্রায় £১৬০ মিলিয়ন মূল্যের। এছাড়া, তাদের মালিকানাধীন সম্পত্তি রয়েছে দুবাই, নিউ ইয়র্ক, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াতেও। এই সম্পত্তিগুলোর বেশিরভাগই অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে কেনা হয়েছে, যা তাদের আয় বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি ।
এদিকে, Transparency International (TI) যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষকে এসব সম্পত্তি বিক্রি বা স্থানান্তরিত হওয়ার আগেই যথাযথ তদন্ত ও বাজেয়াপ্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। TI-এর মতে, এসব সম্পত্তি ফেরত নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতি বিরোধী প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা উচিত।
চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন এবং বলেছেন, তার সম্পত্তি বৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জিত। তবে, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।(londonbarta.co.uk)
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

0 Comments