সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশত্যাগ
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশত্যাগ: বিতর্ক ও তদন্তের মুখে প্রশাসন
ঢাকা, ১০ মে ২০২৫ — সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সম্প্রতি থাইল্যান্ডে চিকিৎসার জন্য দেশত্যাগ করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে তিনি থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছেলে রিয়াদ আহমেদ ও শ্যালক ড. এ এম নওশাদ।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে কোনো বিদেশযাত্রা নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তাকে যেতে দেওয়া হয়েছে। তবে, জানা গেছে যে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার গত জানুয়ারিতে একটি গোপনীয় বার্তায় আবদুল হামিদসহ ৪৫ জনের বিদেশযাত্রা রোধের অনুরোধ করেছিলেন। এই তালিকায় আবদুল হামিদের নাম ৩৯ নম্বরে ছিল। তবে, এই অনুরোধ ইমিগ্রেশন শাখায় পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে।
আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১২৪ জনের নাম রয়েছে। এই মামলায় তাঁর দেশত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আবদুল হামিদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং তাঁর দেশত্যাগে সহায়তাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, যদি দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না যায়, তবে তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন।
এই ঘটনার পর, ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার এবং পুলিশের বিশেষ শাখার একজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আবদুল হামিদের নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে তাঁর দেশত্যাগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতির দেশত্যাগ এবং এর পেছনের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে।
.jpeg)
0 Comments